Description
বিরুধকের সৈন্যদল দীঘকারয়ণের নেতৃত্বে কপিলাবস্তুর প্রবেশদ্বারের সামনে এসে দাঁড়াল। দীঘকারয়ণ সৈন্যযোজন শুরু করার পর পাঁচ সহস্র পদাতিক কোশল যোদ্ধাকে আক্রমণের পুরোভাগে আনা হয়েছে। এরা বর্শা নিক্ষেপে অত্যন্ত পারদর্শী। সৈন্যসজ্জার দ্বিতীয় স্তরে অধিরথ সারথির রথে রয়েছে রাজা বিরুধক স্বয়ং। রাজার দুপাশে অশ্বারূঢ় হয়ে রয়েছে দীঘকারয়ণ এবং অম্বরীষ। দীঘকারয়ণের স্কন্ধে ধনুক, হাতে রণতূর্য; এই মধ্যস্তর থেকে সে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তার পাশে সমান্তরালে দাঁড়িয়ে এক সহস্র অশ্বারোহী যোদ্ধা। এই যোদ্ধারা ধনুর্বিদ্যা ও অসি চালনায় সমান পারদর্শী। সৈন্যসজ্জার তৃতীয় ও অন্তিম সারিতে বিশটি হস্তীতে চড়ে আক্রমণে উদ্যত সৌতিক, মঞ্জুভাষসহ শ্রাবস্তীর সর্বোত্তম যোদ্ধারা।
শাক্যরা পার্বত্য জাতি। তারা যেমন ধনুর্বিদ্যায় পারদর্শী তেমন অশ্বারোহণে। উচ্চভূমিতে তাদের চলনও দ্রুতগামী। তবে বৃদ্ধ রাজা মহানামা জানেন, তাঁর প্রতারণার কারণেই শাক্যদের উপর এই যুদ্ধ নেমে এসেছে। এই কর্মফলভোগ প্রভু বুদ্ধও রোধ করতে পারবেন না। মহানামা জানেন প্রাণহাণি মহাপাপ; প্রভু বুদ্ধের স্বজাতি তারা, সম্মুখ সমরেও প্রতিপক্ষের প্রাণনাশ অধর্ম। তিনি তাই তুখোড় তীরন্দাজ শাক্য যোদ্ধাদের নির্দেশ দিলেন, “প্রাণনাশ নয়, তীর ছুঁড়ে শত্রুদের কান কেটে ছেড়ে দাও।” শাক্যযোদ্ধারা সংখ্যায় কম, তার উপরে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতও ছিল না। তাই নগরের প্রবেশদ্বারের বাইরে তারা পদাতিক সৈন্যের প্রাচীর গড়ে দাঁড়াল।
সেনাপতি দীঘকারয়ণ রণতূর্য বাজিয়ে নির্দেশ দেওয়ামাত্র পদাতিক কোশল সৈন্যরা তীব্র গতিতে সমরক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তাদের ভল্লের আঘাতে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল শাক্য সৈন্যের প্রাচীর। কোশল সৈন্যসজ্জার দ্বিতীয় স্তর থেকে মূহুর্মূহু ছুটে গেল অগ্নিময় তীর। নগরের বাইরের প্রাচীর পেরিয়ে সেই তীর ছুটে গেল জনবসতিগুলির উপর। গৃহ, বিপনী, দেউল দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করল। খোলা তরবারি হাতে দীঘকারয়ণ তার অশ্ব নিয়ে শাক্যদের প্রতিরোধ ভেদ করে নগরে প্রবেশ করল। তার পিছন পিছন ছুটে এল অশ্বারোহী কোশল সৈন্যেরা। দীঘকারয়ণ প্রবল বিক্রমে অসি চালনা করে শাক্যদের কচুকাটা করতে শুরু করল।










Reviews
There are no reviews yet.