Description
দেশভাগের পর পূর্ববাংলা (সেই সময়ের পূর্বপাকিস্তান) থেকে উৎখাত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ চলে আসছিল সীমান্তের এপারে। পশ্চিমবঙ্গ মাঝারি মাপের রাজ্য; তার পক্ষে এত মানুষের চাপ নেওয়া ছিল অসম্ভব। তাই শরণার্থীদের জন্য নেওয়া হল আন্দামান প্রকল্প। বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে দু’শোরও বেশি দ্বীপ নিয়ে যে ভূখণ্ডটি রয়েছে তার বিশাল দুই দ্বীপ দক্ষিণ ও মধ্য আন্দামানে তখন শরণার্থীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু সেই সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল উদ্বাত্মাদের নিয়ে তুমুল আন্দোলন শুরু করে দেয়, কিছুতেই তাদের আন্দামানে যেতে দেবে না। অন্যদিকে আন্দমান যাতে বাঙালি উষাগুদের হাতছাড়া হয়, গোপনে গোপনে তারও চক্রান্ত চলছে। এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সর্বস্বহারানো মানুষগুলো আন্দামানে যাচ্ছিল নিজস্ব একটা বাসভূমির সন্ধানে।
ইতিহাসের এই পটভূমিতে বিনয় ‘নতুন “ভারত” পত্রিকার সাংবাদিক হয়ে হাজারখানেক উদ্বাত্মর সঙ্গে প্রথমে ‘রস’ আইল্যান্ডে এসে নামে। এদের মধ্যে পাঁচশো জন যাবে দক্ষিণ আন্দামানের জেফি পয়েন্টে। বাকি পাঁচশো যাবে মধ্য আलমানে ‘রস’ আর ‘পোর্টব্লেয়ার থেকে সম্ভব মাইল দূরে।
চকিতের জন্য ‘রস’ দ্বীপে নিরুদ্দেশ ঝিনুকের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় বিনয়ের। চিরদুঃখী, ধর্ষিতা, অভিমানী ঝিনুক। সে কিন্তু বিনয়ের কাছে ধরা দেয় না, মধ্য আন্দামানের জাহাজে উঠে চলে যায়। বিনয় পাঁচশো উদ্বাস্তুর সঙ্গে চলে আসে জেফ্রি পয়েন্টে। সেখানে নতুন পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়। এলাকাটার তিনদিকে পাহাড় এবং হাজার বছরের গভীর জঙ্গল। জঙ্গলে রয়েছে হিংস্র আদিবাসী জারোয়ারা। বাইরে থেকে তাদের এলাকায় কেউ এলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে । মুহুর্মুহু হামলা চালায়। অন্যদিকে সমুদ্র— সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে হাওর।
পূর্ববাংলার অপরাজেয় মানুষগুলো দেশ হারিয়ে এসে অদম্য সাহসে গড়ে তুলতে থাকে তাদের নতুন বাসভূমি। ধ্বংসস্তূপ থেকে হতে থাকে তাদের উত্থান। এদিকে বিনয় কি পারবে ঝিনুকের কাছে পৌঁছতে?
মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘কেয়াপাতার নৌকো’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’-এর পরবর্তী খণ্ড ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ নিছক কাহিনি নয় বঙ্গজীবনের এক ক্রান্তিকালের অনন্য ইতিহাসও।






Reviews
There are no reviews yet.