Description
ইটির ভূমিকা —
ইংরেজ বিতাড়িত নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ’এর বজরা এসে থামে মেটিয়াবুরুজে। পেছনে অর্ধশতাধিক বজরায় জীবজন্তু পাখী থেকে তওয়াএব, গায়িকা, নর্তকী, তবলিয়া, সারেঙ্গিঅলা, কোঠেবালি, আতরঅলা, খানসামা, বাবুর্চি, খাদিম, হেকিম, মৌলানা, মৌলভি, রাজমিস্ত্রি, ধোবি, হাজাম আরো আরো অনেক পেশাদার। নেমেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এলাকা গড়ে তোলে। ইংরেজদের সংস্পর্শে বাঙ্গালিকুলের একটি অংশ তোষামোদ ও চাটুকারি শিল্পে উন্নত হয়ে গুছিয়ে নেয় আখের। সুবে-বাঙ্গলার বাঙ্গালির রমরমা তখন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ডাক্তার, প্লীডার, ব্যরিষ্টার, অফিসার, টিচার, বিজনেসম্যান, প্রফেসার, ক্লার্ক, কন্ট্রাক্টর, ইঞ্জিনিয়ার, জমিদার। একদিকে ইংরেজি শিক্ষা, অন্যদিকে ব্রাহ্মদের উদারতা, মাঝখানে হিন্দুদের সংস্কার।বাঙ্গলার বাইরে গড়ে ওঠে বাঙ্গালিদের নিজস্ব ঘরানার এলাকা; সেই এলাকায় কপাল খুলতে এসে জোটে বাঙ্গালি দোকানদার, চাঁদসী ডাক্তার, ঠিকাদার, মুদি, দশকর্ম ভাণ্ডার, হোটেল ব্যবসায়ী, কম্পাউন্ডার, ড্রাইক্লিনার্স, যাত্রাদল, হোমিওপ্যাথ, স্বর্ণকার, মেস-পরিচালক, পুরুত, কেরানি, ওষুধ প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের দোকান, ইমারতি দ্রব্যের দোকান, নানান পেশাজীবী। এই সব বাঙালিরা মিশে গেছেন বিভিন্ন রাজ্যের ভূমিপুত্রের সাথে। ভাষা, সংস্কৃতি সব গ্রাস করে মিলিয়ে গেছেন তাদের মাঝে। যে জীবন, যে বাঙলা ভাষা, সে সংস্কৃতি বাঙ্গালির, তবু তা অন্যরকম। যেমন আন্দামানের বাঙ্গালি, যেমন শ্রীলঙ্কার তামিল, যেমন মরিসাসের বিহারী, যেমন ক্যারিবিয়ানের নিগ্রো, যেমন ফরাসি দেশের আরব, জার্মানির তুর্কি, আজারবাইজানে রাশিয়ান। যাদের যে কী ইতিহাস তা কেউ জানে না। এই রচনাটি সেই সব ‘মিথ’-এর গল্প। —






Reviews
There are no reviews yet.