Description
সামান্য সামান্য তার ছায়াপত্র। পিপাসার আঁখি জলের কিনারে এসে ঘুরে ঘুরে মরে। দুটি-একটি স্তোত্র বলে চুপিচুপি। অতীত মাথুরে হু হু করে তার মন। নিশিপদ্মে যে তাকে ফেলে গেছে মুঠো-মুঠো ছলনার বনে, তার জন্য রচনা করে জন্ম-জন্মান্তর। ব্যথামুগ্ধ হাতে কেঁপে ওঠে এলোমেলো হৃদয় বুদ্বুদ। তার কেউ নেই। শুধু এক অগোচর টান। সেই টান ডাক দিলে নিরুপায়, সে সাড়া দিয়ে ওঠে। আহত হবার জন্য ছুটে যায়। দোলাচল শ্বাস ফেলে সমগ্র সন্ধানে। একবার উন্মাদ হয় পুনর্বার মনে হয় সে যেন মহাশূন্যে ভাসমান। রাক্ষসীর ঠোঁটে কালস্রোত পার হয় কলঙ্কের দিঘি। সে-ই শুধু সেই কালে জ্বলে পুড়ে মরে। সর্বস্ব নিয়ে জেগে থাকে মুকুরে মুকুরে ওড়া ভ্রমের কাজলে।
দূরে বসবাস। বীরভূমে। ছেঁড়া-ছেঁড়া বাতাসের দিনলিপি লেখা তার মনের শরীর। শরীরে বসত করে নৌকা। কাগজে কাগজে ঢাকা বাড়িঘর। উদাসীন নিমগ্ন নিঝুম বইপত্র। রাশি রাশি কলমের ঝরনা। ঝরনার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় পাতায় ঢাকা কবিতার সংসার। ফুটি-ফুটি সূর্যরশ্মি ঝিলিক দিয়ে যায় গোল হয়ে ঘুরতে থাকা অসন্তুষ্ট জলাশয়ে। এটুকুই তার অবয়ব। নিশিরাত। বাঁকা চাঁদ। গানের শিশির। শিশিরে শিশিরে দেখা ভাঙাচোরা মুখ। মুখের সর্বত্র কবিতার চিরকুট। কবিতাই তার জীবন, একমাত্র মরণাক্ষি।






Reviews
There are no reviews yet.