Description
বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বহু বছর ধরেই মৃৎশিল্পের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। তবে তাদের মধ্যে কুমোরটুলি ও কৃষ্ণনগর বিখ্যাত। কলকাতার বুকেই আছে একটি কুমোর পাড়া। উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি শুধু একটি স্থান নয়, এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যেখানে শিল্প ও দৈনন্দিন জীবন অপূর্বভাবে মিশে গেছে। গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই ছোট্ট পাড়া পৃথিবীবিখ্যাত মৃৎশিল্পের কেন্দ্র, যেখানে প্রতিমা তৈরির কারিগররা তাদের হাতের জাদুতে দেব-দেবীর মূর্তি ফুটিয়ে তুলে বাংলার সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।
কুমোরটুলির গলি-গলি, কর্মশালা আর শিল্পীদের জীবনযাত্রা এক অনন্য গল্প বলে, যেখানে শিল্প, পরিশ্রম এবং ঐতিহ্য একসঙ্গে মিলিত হয়।
কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প এবং ঘূর্ণি অঞ্চলের মাটির পুতুল রাজ্য, দেশ তথা বিশ্বে সু-বিখ্যাত। বিভিন্ন কুমোরের হাতে তৈরি মূর্তি গুলোর মধ্যে মানুষের বাস্তব জীবনের পরিস্থিতির মনোভাব পরিপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে। দক্ষ শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় প্রতিটি মূর্তি থেকে শুরু করে পুতুল, খেলনা সবকিছুই খুবই সূক্ষ্ম হাতে তৈরি করা। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল সত্যিই যেন জীবন্ত হয়ে কথা বলতে চায়।
কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের শিল্পনির্মাণ শুধুমাত্র রাজ্য কিংবা দেশ-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিল্প অনুরাগী বহু মানুষ আমেরিকা, ইউরোপ ও ব্রিটিশ থেকে অনেক মূল্য দিয়ে কৃষ্ণনগরের মৃৎ শিল্পীদের গড়া অনেক মাটির জিনিস কিনে নিয়ে যান। তাই বিশ্বের দরবারে কৃষ্ণনগর এলাকার মাটির পুতুল বিশেষ বিখ্যাত ও সুখ্যাতি অর্জন করেছে।
এই গ্রন্থে কুমোরটুলি গড়ে ওঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মৃৎশিল্পীদের বসতি ও স্টুডিও, সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও কুমোরটুলির শ্রীবৃদ্ধি, মৃৎশিল্পীদের সাতকাহন, নারী শিল্পীদের ভূমিকা, কৃষ্ণনগরের মৃত্তিকা শিল্পের অবস্থান, মাটির পুতুলের বৈশিষ্ট্য, শিল্পীদের জীবনচিত্র, বাঁকুড়ার শিল্পীদের সাথে পার্থক্য কি? এই শিল্পের ভবিষ্যৎই বা কি? এই সব একাধিক বিষয়ের আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি এই গ্রন্থে।











Reviews
There are no reviews yet.