Description
সমৃদ্ধিশালিনী প্রাচ্যবিদ্যা হিসেবে অলংকারশাস্ত্রের কাব্যশাস্ত্রের নৈষ্ঠিক চর্চা করেছেন সংস্কৃতজ্ঞ প্রাচীন আচার্যরা। তাঁদের পদাংক অনুসরণ করে এবং বর্তমান কালের মনীষার আলোকসম্পাত করে সেই সব কাব্যশাস্ত্রের অনুবাদ, আলোচনা, বিশ্লেষণ, টীকা-টিপ্পনী রচনা করেছেন আধুনিক বাঙালি পণ্ডিতেরা। তার ফলে সেকালের কাব্য-মীমাংসা একালের পাঠকদের অনেকটা করায়ত্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও সাধারণ পাঠক ও ছাত্রছাত্রীদের মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, বাংলা ভাষায় আরও সহজ ও সরল করে প্রাচীন ভারতীয় কাব্যতত্ত্ব আলোচনার প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে মূল আলোচনায় সংস্কৃত উদ্ধৃতি ও উদাহরণ বেশি থাকলে তা সাধারণ পাঠক ও ছাত্রছাত্রীদের শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি এই সব দিকে লক্ষ্য রেখে যথাসম্ভব সহজ করে এই ‘কাব্যতত্ত্ব’ গ্রন্থ লিখেছি। তবে অকপটে স্বীকার করছি, বিষয়টাকে যতটা সরল ভাষায় স্পষ্ট করে তুলতে পারবো বলে ভেবেছিলাম, ততটা করতে পারিনি। তার একটা কারণ, আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য আমাকে মাঝে মাঝেই সংস্কৃত বচনের বাংলা অনুবাদ দিতে হয়েছে।
বাংলা ভাষায় প্রাচীন ভারতীয় কাব্যতত্ত্বের আলোচনা কম হয়নি। তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ অতুলচন্দ্র গুপ্তের ‘কাব্যজিজ্ঞাসা’, সুধীরকুমার দাশগুপ্তের ‘কাব্যালোক’, রমারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের ‘রসসমীক্ষা’, বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্যের ‘সাহিত্য-মীমাংসা’ ও ‘কাব্য-মীমাংসা’, সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের ‘কাব্য-বিচার’ ইত্যাদি। আমি এই গ্রন্থগুলি থেকে যথেচ্ছ ঋণ গ্রহণ করেছি। যে অনুবাদসহ মূলগ্রন্থগুলি আমি প্রয়োজন ব্যবহার করেছি তা হচ্ছে সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও কালীপদ ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘ধ্বন্যালোকঃ’ ও ‘লোচন-টীকা’ এবং বিমলাকান্ত মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘সাহিত্য-দর্পণ’ ও ‘ধ্বন্যালোকঃ”। সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আর ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার ছাত্র ড. সুধীন্দ্রচন্দ্র দেবনাথকে যিনি শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও এই বইয়ের প্রুফ দেখে দিয়েছেন।
আমার সীমাবদ্ধ সংস্কৃত জ্ঞান নিয়ে যে বই লিখেছি তাতে কিছু-কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। যে সব ত্রুটি রয়ে গেছে, পরবর্তী সংস্করণে তা দূর করার চেষ্টা করবো। সম্ভাব্য সব ত্রুটি সত্ত্বেও এই বই যদি সাধারণ পাঠক ও ছাত্রছাত্রীদের কাজে লাগে, তবে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।
জীবেন্দ্র সিংহ রায়।






Reviews
There are no reviews yet.