Description
বাঙালীর সামাজিক ও জাতীয় জীবনে তথা ভারতের রাষ্ট্রীয় রাজনীতির পটভূমিতে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ও তাঁর ব্যক্তিত্বের স্থান নির্ণয় নিয়ে আজ আর কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। মহান পিতার সুযোগ্য পুত্রকে আমরা একাধারে শিক্ষাবিদ, বিদ্যোৎসাহী আবার অক্লান্ত সমাজসেবী এবং নিঃস্বার্থ নির্ভীক রাজনীতিক নানাভাবে পেয়েছি। ভারতের স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও দেশভাগকালীন অবস্থার অভিজ্ঞতা যাঁদের আছে, তাঁরা জানেন মন্বন্তরের সময়ে এবং দেশভাগের পর বাংলা ও বাঙালীর কল্যাণার্থে শ্যামাপ্রসাদ কিভাবে উদয়াস্ত পরিশ্রম করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তর্ক করে ও আলোচনা করে উদ্বাস্তুদের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পাকিস্তান তোষণ নীতির প্রতিবাদে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে ইতস্তত করেন নি। তিনি বরাবর যা নিজে ভাল বুঝেছেন, সাধারণ মানুষের হিতকর হবে ভেবেছেন তা করতে পিছপাও হননি। লোকনিন্দার বা সমালোচনার পরোয়া করেন নি। স্বাধীনতার আগে ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় যোগদান ও পদত্যাগ, স্বাধীনতার পর হিন্দু-মহাসভার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় যোগদান, নেহরুজীর সঙ্গে মতবিরোধে পদত্যাগ, জনসঙ্ঘ দলের প্রতিষ্ঠা-এ সবই তাঁর জনগণের মঙ্গল-অন্বেষা ও চরিত্রদার্য্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। হিন্দু-মহাসভার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই তাঁকে সাম্প্রদায়িক বলে তাঁর ব্যক্তিত্বকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকথা, দিনলিপি ও শেষজীবন পড়লে এই ভুল আর কারও হবে না। এই কর্মবীর মানুষটির পারিবারিক জীবনটিও ছিল স্নেহময় ও মধুর যদিও ভাগ্যের নিদারুণ আঘাত মাঝে মাঝেই শ্যামাপ্রসাদের জীবনে নির্মম ভাবে নেমে এসেছে। গ্রন্থের প্রথম ভাগে সম্পাদক ও শ্যামাপ্রসাদের অনুজ শ্রীউমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখিত ‘মুখপত্র ও ঘরোয়া কাহিনী’তে এবং শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকথায় শ্যামাপ্রসাদের পারিবারিক জীবনের অন্তরঙ্গ চিত্র আছে।








Reviews
There are no reviews yet.