Description
‘গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্ত’ কাহিনী হিসাবে অতুলনীয়। শৈশবস্থলভ কল্পনার স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিণত বৃদ্ধির এমন অপুর সমাবেশ কম দেখা যায়। ভাষার দিক থেকেও এই রচনার উৎকর অবিসংবাদিত। এমন প্রাক্কল ও সাবলীল গত গল্পের রস জমাবার পক্ষে অদ্বিতীয়। এ ভাষা এলিজাৰেীষ যুগের বিলাসিতার বাড়াবাড়ি কাটিয়ে উঠেছে, অথচ জনসনীয় যুগের পণ্ডিতশ্বরতার বেড়াজালে জড়ায়নি। যোগ্যতর ভাষা ভাবা যায় না। এমন কাহিনীর পক্ষে এর চেয়ে
“গালিভারের ভ্রমণবৃত্তান্তে’র অর্ধেক মানুষ হল তার কপট গম্ভীর প্রকাশভঙ্গীতে এবং অভাবনীয় পরিস্থিতিতে বাস্তবধর্মী নায়কের প্রতিক্রিয়ায়। অভূতপূর্ব ঘটনাগুলিকে তাদের ছোট ছোট খুঁটিনাটি সহ এমন নিরাসকভাবে সংযত ও স্পষ্ট ভাষায় বিবৃত করা হয়েছে যে বিশ্বয়ে অভিভূত পাঠক গালিভারের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার সঙ্গের সাথী হয়ে ওঠেন।
মনে হয় গল্পের চারিটি খণ্ডের মধ্যে লিলিপুট কাহিনী সবচেয়ে কাব্যময় এবং অবডিংনাগের ব্যাপার সবচেয়ে উদ্ভট। লাপুটার বিবরণী তেমন ভালো উৎরোষ নি, কিন্তু তার মধ্যেকার ভবিষ্যদ্বানীর ইঙ্গিত পাঠককে বিস্মিত না করে ছাড়ে না। হুইনদের দেশের কাহিনীতে যেরকম উগ্র ও তিক্ত প্লেব পাওয়া যায়, তার জুড়ি মেলা ভার।
কিন্তু কাহিনীর উৎকৃষ্টতায় তার শ্লেষের দিকটি একেবারে চাপা পড়ে গিয়েছে। কি ছেলে কি বুড়ো, সবাই গল্পের জন্যে এ বই পড়ে, শ্লেষের তার। ধার ধারে না। কিন্তু এ কথাও মানতে হবে যে সে সময়কার ইংল্যান্ডের রাজনীতির এমন কটূ সমালোচনা কেউ বড় একটা করে নি, তবু সৃষ্টিকারের কাছে সমালোচক পরাজিত।
গল্পের শেষটুকু বড় কটূ। কিন্তু হুইনদের গল্প সমগ্র মানবসমাজের প্রতি
বিদ্বেষ ও ঘৃণায় পরিপূর্ণ হলেও এমনি প্রাণশক্তিতে বলিষ্ঠ এই কাহিনী, যে
সেই বিদ্বেষকে জগতের সব শিল্পীদের মনে আদর্শ ও বাস্তবের মধ্যে যে চিরম্বন
খন্দ চলেছে, ভাবি একটি অভাবনীয় প্রকাশ বলে মনে করা যায়।





Reviews
There are no reviews yet.