Description
এ বইতে যে মানুষটির কথা লেখা হয়েছে, তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর ইতিহাস, বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তর, কলকাতার দাঙ্গার রক্তাক্ত দিন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা, ও দেশের তৎকালীন অবস্থার অদলবদল। এক সময়ের অবস্থার প্রতিকূলতার ফলে পুব-বাংলা থেকে ভেসে আসা যে মানুষরা ওপড়ানো শেকড়কে পুনস্থাপন করার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, সে রকমই এক পরিবারের দুহিতা গ্রন্থের নায়িকা। স্বাচ্ছল্যে ভরা জীবনযাত্রা থেকে আর্থিক অসুবিধের মধ্যে উপনীত হলেও তারই মধ্যে কন্যা মানিয়ে নিতে পিছপা হন না, বরং প্রচণ্ড পরিশ্রম সহকারে একই সঙ্গে পড়াশোনা ও জীবিকার খোঁজ করেন সেই সাহসিনী। অর্জন করেন সম্মান, লাভ করে কলকাতার তৎকালীন বিখ্যাত ব্রাহ্ম ইস্কুলের শিক্ষয়িত্রী পদ। বিবাহ, সন্তানদের লালন-পালন, তাদের উচ্চশিক্ষার মধ্যেও তাঁর জীবন অদম্য শক্তিতে ভরপুর। কিন্তু জীবন-সায়াহ্নে সাথিহারা হওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতায় তাঁর স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। তবুও ডায়েরির পাতায় নিজের জীবনকে ধরে রাখেন পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায়। নিজের প্রিয় সহোদরাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এ লেখা বিগত প্রায় দেড়শো বছরের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার প্রতিবিম্বও বটে। অপরাজিতা লেখিকার মা। তিনি ভুলে গিয়েছেন তাঁর প্রিয় সেজদিদি আর বেঁচে নেই। বইতে তাই তাঁর সঙ্গেই কথোপকথন চলে। কিন্তু জরা তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। বর্তমানকাল নয়, অ্যালজাইমারকেই বন্ধু হিসেবে মেনে নিয়ে নিজের প্রৌঢ়ত্ব, যৌবন, নির্ভার কৈশোর ও নিশ্চিন্ত শৈশবের স্মৃতিচারণের পথে ফিরে যেতে যেতে তাঁর যে গভীর বোধোদয় ও আত্মদর্শন হয়, তা বিস্মিত করে। অপরাজিতা পরাজিত হন না।







Reviews
There are no reviews yet.