Description
“আর্তাতে মুদিতা হৃষ্টে প্রোষিতে মলিনা কৃশা। মৃতে ম্রিয়তে যা পত্যৌ সা স্ত্রী জ্ঞেয়া পতিব্রতা।।’— অর্থাৎ যে স্ত্রী স্বামীর দুঃখে ব্যথিতা, স্বামীর সুখে হৃষ্টা, স্বামী বিদেশে গেলে যিনি মলিনা ও কৃশা এবং স্বামীর মৃত্যুতে যিনি মৃত্যুবরণ করেন, তিনিই সতী।” কিন্তু পতিপ্রেমের দোহাই দিয়ে জীবিত মানুষকে পুড়িয়ে মারা কি আদৌ মানবিক বিচারে সমর্থনযোগ্য? অথচ এই কলঙ্কিত প্রথার সাক্ষী থেকেছে ভারতবর্ষ বহু যুগ ধরে। শুধুই কি ভারত? না কি পৃথিবীর অন্যত্রও ছিল এই প্রথা? সকলেই কি স্বেচ্ছায় সতী হতেন? না কি সম্পত্তি আর সামাজিক মর্যাদার লোভে জবরদস্তি পুড়িয়ে মারা হত বিধবা স্ত্রীদের? ঠিক কতটা লড়াই লড়তে হয়েছিল রাজা রামমোহন রায়কে এই প্রথার উচ্ছেদ সাধনে? কতটা কঠিন বাধা পেরোতে হয়েছিল লর্ড বেন্টিঙ্ককে সেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে? এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে গোরাচাঁদ মিত্র লিখিত এই গ্রন্থ ‘সতীদাহ’তে। একাধিক দুষ্প্রাপ্য সরকারি দলিল, পত্রাবলি, পুলিস রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে লিখিত এই গ্রন্থ সেই সকল শত শত রমণীদের স্মরণ করায় যারা ‘আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে’ আজকের মেয়েদের যাত্রাপথকে মসৃণ করে দিয়ে গেছেন। এই গ্রন্থ স্মরণ করায় সেই সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ভারতীয় ও ব্রিটিশ আধিকারিকদের যাঁরা কণ্টকাকীর্ণ পথে নিজেদের চরণ রক্তাক্ত না করলে হয়তো আজও সেই প্রাণঘাতী হুতাশনের রাক্ষুসে হাঁ গিলে চলত এই ভারতবর্ষের অসংখ্য নারীদের। তাঁদের চরণে এই গ্রন্থ একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য।







Reviews
There are no reviews yet.