Description
পায়ে পায়ে অনেকটা দূর চলে এসেছেন ভোলানাথবাবু। হাঁপ লাগছে বেশ। এবার একটু না বসলেই নয়। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানান মাপের পাথর। তার একটিতে বসলেন তিনি। কিছু দূরে ভাঙা কেল্লার ধ্বংসাবশেষ। বিলিতি সিপাইদের কতগুলি সমাধি। সেও অতি প্রাচীন। ফলক উপড়ে গিয়েছে। সমাধির প্রস্তরে আগাছা আর বুনো জঙ্গল। আর এসব ছাড়িয়ে দূরে দূরে সবুজ পাহাড়ের সারি। অবশ্য স্পষ্ট নয় তেমন। কারণ ঘন একটা কুয়াশার চাদর কোথেকে ধেয়ে আসছে। এখানে এটাই সমস্যা। মেঘ আর কুয়াশার বড়ো দাপাদাপি। তবে এও ঠিক, পাহাড়ের এই অবগুণ্ঠিত রহস্যময়ী রূপও কম আকর্ষক নয়। দু-দিন হল এসেছেন এখানে। চমৎকার জায়গাটি। একটা ধার দিয়ে নদীও বয়ে চলেছে দিব্যি। আর গাছপালাও যে কত রকমের। আসা ইস্তক মনের সুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোলানাথবাবু। রোজই এক-একটি দিকে বেরিয়ে পড়েন। আজ যেমন এলেন এই ভাঙা কেল্লার দিকে। এদিকটায় বড়ো গাছপালা অপেক্ষাকৃত কম। পাথরের ভাগটাই বেশি। দূরে-অদূরে গুহামুখও দেখা যাচ্ছে কয়েকটা। সেদিকে তাকিয়ে হঠাৎই হোটেলের বেয়ারা ছেলেটার কথাটা মনে পড়ে গেল তার। ইদানীং নাকি এ মুলুকে ‘খুন পিনেওলা চমকাদরের’ আমদানি হয়েছে। মানে কিনা রক্তচোষা বাদুড়। এবং ইতিমধ্যেই নাকি দু-চারজন শিকার হয়েছে তাদের। কে জানে, হয়তো ওইসব গুহাগুলোর ভিতরেই থাকে জীবগুলো।








Reviews
There are no reviews yet.