Description
বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার তুলনায় প্রাচীন ভারতবর্ষে বিস্ময়কর উন্নতি ঘটেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের। জন্ম নিয়েছে ‘চরক সংহিতা’, ‘সুশ্রুত সংহিতা’র মতো ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের আকরগ্রন্থ। চরক বা সুশ্রুত সম্ভবত ব্যক্তিনাম নয়, প্রাচীনকালের চারণবৈদ্যদের ও শল্যচিকিৎসকদের গোষ্ঠীগত পরিচয়। উগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী বর্ণ বিভাজনকে অগ্রাহ্য করে প্রাচীন ভারতের চারণবৈদ্য ও সুশ্রুতরা সেই অন্ধকার সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে প্রাক্-ঊষাকাল পার করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আলোর দিকে। প্রবল প্রত্যক্ষনিষ্ঠা, প্রখর অনুসন্ধানদক্ষতা ও অবিশ্রান্ত ভ্রাম্যমাণতার গুণে অকুতোভয় এই আলোর পথযাত্রীরা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল ভিত্তিটিকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। সেই ভিত্তি আয়ুর্বেদ, যা কোনওভাবেই পঞ্চম বেদ নয়। বৌদ্ধ চিকিৎসকদের ও জঙ্গলবাসী ভূমিপুত্রদের সঙ্গে আদান-প্রদানে গড়ে ওঠে ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমৃদ্ধ জ্ঞানভান্ডার। ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের এরকম অগ্রগতি উগ্র ব্রাহ্মণ সমাজপতিরা স্বভাবতই মেনে নিতে পারেননি। ‘নিম্ন শ্রেণী’র মানুষের চিকিৎসা করার অপরাধে চিকিৎসকদের ‘অপবিত্র’ ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মীয় সংকীর্ণতার আড়ালে অর্জিত জ্ঞানকে রক্ষা করতে চেয়েছেন অনন্যোপায় ভারতীয় চিকিৎসকরা। এসবেরই বিস্তারিত সুলুকসন্ধান পাঠক পাবেন এই বইতে। প্রাচীন ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে বাংলাভাষায় এরকম সবিস্তার গবেষণাগ্রন্থ এই প্রথম।






Reviews
There are no reviews yet.