Description
ভারতীয় ব্রিটিশ পুলিশ বিভাগের অভিজ্ঞ অফিসার এডমন্ড চার্লস কক্স-এর অমর সৃষ্টি- জন ক্যারুথার্স। ধারালো বিশ্লেষণ, সিংহের মত সাহস, দুর্দম ডিটেকটিভ। উনিশ শতকের রহস্যময় ভারতের বুকে তাঁর নানান কেস-দের লিপিবদ্ধ করেছেন অনুচর ট্রেঞ্চ, কৃষ্ণ এমন অনেক পুলিশকর্মী।
—————————–
“অনুগ্রহ! তোমাকে!” তিনি বললেন ঠান্ডা গলায়, “কী ধরনের অনুগ্রহ চাও?”
“অন্য কিছু নয়”, আমি বললাম, “তবে আমি বহু ভেবেও একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারিনি, হুজুর তুল্লিগাওঁয়ে থাকার বদলে ঝুড়ির মধ্যে এলেন কী করে?”
তিনি বারকয়েক পায়চারি করলেন এপাশ ওপাশ, তারপর আমার কাছে এসে স্থির হয়ে দাঁড়ালেন, বললেন, “বেশ। শোনো তবে। তোমাকে আমার সন্দেহ বহুদিন ধরেই, কিন্তু আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নিইনি, হাতেনাতে ধরার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু যখনই ইয়াতিম খানের কাছ থেকে চিঠি পেলাম, তখনই বুঝতে পারলাম বড়ো কোনো গণ্ডগোল হতে চলেছে, কারণ সেটাতে তুল্লিগাওঁয়ের বদলে ঘারিবাবাদের ডাকছাপ ছিল।”
“ঘারিবাবাদ!” আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, “কিন্তু আমি তো ওটা তুল্লিগাওঁয়ের ডাকে ফেলার জন্য পাঠিয়েছিলাম!”
“আমিও তাই ভেবেছিলাম”, বললেন ক্যারুথার্স সাহেব, “কিন্তু তোমার কায়দাটা খাটেনি। সম্ভবত তোমার লোক এটা ঘারিবাবাদেই পোস্ট করে তুল্লিগাওঁয়ে যাওয়ার ঝামেলা বাঁচিয়েছিল। আর সেই দিনই আমি ইয়াতিম খানের কাছ থেকে একটা ব্যক্তিগত চিঠি পাই যে তার এলাকায় সব ঠিকঠাকই চলছে। তার মানে আমাকে এখান থেকে সরানোর চক্রান্ত চলছে, আর আমার মনে হয়েছিল চালটা তুমিই খাটিয়েছ। এটা ভেব না যে তোমার শাহপুরে যাতায়াত করাটা কারো নজরে আসেনি, যদিও সেখানে তোমার কাজটা কী আমি ঠিক ধরতে পারিনি। তুমি আমাকে মেল ট্রেনে উঠতে দেখেছ; কিন্তু তুমি এটা জানতে না যে আমি ড্রাইভারের সঙ্গে ব্যবস্থা করে এসেছিলাম যেন সে আমাকে এক মাইল দূরে ট্রেন থামিয়ে নামিয়ে দেয়। তোমার মতলব খুঁটিয়ে ভাবার মতো সময় আমার ছিল না, কিন্তু এটা ধরতে পেরেছিলাম যে সেটা শাহপুরকে কেন্দ্র করেই হবে। তাই আমি কৃষ্ণ আর অন্যান্যদের নিয়ে সেখানে যাই, কিন্তু সোজা রাস্তায় নয়। যে রাস্তায় তুমি যাবে, আমরা তার উলটোদিক দিয়ে গ্রামে ঢুকি, এবং কিছুটা বাদে বাদে দুজন করে তোমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। সবাইকে আমি একেবারে চুপ করে থাকতে বলেছিলাম। নেহাতই কপালজোরে আমাদের দুজন লোক তোমার গাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। তুমি ভয়ে পালানোয় আমাদের গাড়িটা পরীক্ষা করতে সুবিধে হয়। তোমার বন্ধু বহুক্ষণ ঝুড়ির মধ্যে আটকে কষ্ট পাচ্ছিল, তাই তাকে গলায় গামছা দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয় ঠান্ডা হওয়ার জন্য। আমি কোট খুলে তার ঊর্ধ্বাঙ্গের পোশাকই নিজে গলিয়ে নিই, মুখে মাখি খানিকটা কাদা, তারপর ঝুড়িতে ঢুকে অপেক্ষা করতে থাকি।







Reviews
There are no reviews yet.