Description
অরণ্যের আদিম আতঙ্ক
দুপুর পেরিয়ে সন্ধে হতে চলল। অথচ বিরামহীনভাবে ছুটে চলেছে মাধাই। এই কাজে ও খুব পারদর্শী। গ্রামের সরাই বলে সেই কথা। তাহলে আজ কী হলো? সকাল থেকে পেটে খাবারের এক দানাও পড়েনি তাই কি? কিন্তু এ অভ্যাস তো ওর আছে। খালি পেটেই তো অমন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে সে। তাহলে ডান হাতের কনুই ঘেঁষে গুলিটা বেরিয়ে গেল বলে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে তা-ই কি ওর দুর্বলতার আসল কারণ? এই মুহূর্তে দৌড়তে খুব কষ্ট হচ্ছে মাধাইয়ের। মনে হচ্ছে ভেতরের শ্বাসযন্ত্র দুটো এক্ষুনি ফেটে যাবে। দমটা আটকে আসছে। কিন্তু থামলে তো চলবে না। ও জানে ওর পিছনে এখন সাক্ষাৎ বিপদ। তবে ও সেই বিপদ থেকে বাঁচতে ছুটছে না। ওর লক্ষ্য যে অন্য। ওকে শিকার ভেবে যে শিকারিরা ওর পিছনে পাগল কুকুরের মতো ধেয়ে আসছে, তারা টেরও পাচ্ছে না কোন চরম বিপদের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে তারা। একমাত্র মাধাই জানে সবটা। এসব যে তারই পরিকল্পনা। দলের কাছ থেকে খবরটা ও আগেই পেয়েছে। ব্রিটিশ সিপাহিরা ওর সন্ধান পেয়েছে। আর ওকে খুঁজতেই তারা আসছে এখানে। পরিকল্পনাটা তখনই করে নিয়েছিল মাধাই। আসলে এক্ষেত্রে সম্ভাবনা দুটো। হয় ও ধরা পড়বে কোম্পানির ওই পিশাচগুলোর হাতে, আর না হলে কোনোক্রমে পালাতে বা আত্মহত্যা করতে সফল হবে। এ যাত্রায় পালিয়েও লাভ নেই। ওরা চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। ধরে ঠিকই ফেলবে। আর ধরা পড়লেই প্রবল অত্যাচার। বাঁচিয়ে ওকে রাখবে না ঠিকই। তবে মারার আগে ওর থেকে বাকি তথ্য আদায়ের মরিয়া চেষ্টা চলবে। জানতে চাইবে বাকি বিদ্রোহীদের ঠিকানা। জানতে চাইবে ওর সঙ্গীসাথীদের খবর। বিশেষ করে ওদের এ অঞ্চলের নেতার কথা। রায়পুরের জমিদার দুর্জন সিং এর নেতৃত্বে যে ওরা এতদূর এসেছে তা আন্দাজ করেই নিয়েছে ওই পিশাচ ফিনস্টোন সাহেব। ওর শাগরেদ মরিস ভীষণ ধূর্ত। সারাক্ষণ ঈগলের নজর রেখেছে এই চুয়াড় রেবেলদের উপর। কিন্তু ওদের সকলের হয়ে যেই মানুষটা এ যুদ্ধে জমিদারের নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে, যে মানুষটা এই অঞ্চলে ওদের মাথার ছাতা সেই দুখাই দাদার নাম কিছুতেই মুখে আনবে না ও। ওদের হাতে ধরা পড়ালে প্রবল অত্যাচারে






Reviews
There are no reviews yet.