Description
১৯৫৬ সালে যখন ‘ভারতের চিত্রকলা’র প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় তখন পর্যন্ত পার্সি ব্রাউন থেকে শুরু করে দেশী-বিদেশী কলা-ঐতিহাসিক বা =সনালোচকরা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের সঙ্গে চিত্ররীতি ও দর্শনকে যুক্ত করে ভারতীয় চিত্রকলার কোনো সামাজিক ইতিহাস লেখেননি। যা কিছু গবেষণা ও রচনা হয়েছে তা অধিকাংশই আঞ্চলিক বা বিশেষ যুগনির্ভর। সেই দিক থেকে অশোক নিত্রের ‘ভারতের চিত্রকলা’ ভারতীয় ভাষায় এ-দেশের শিল্প- সংস্কৃতির ইতিহাস রচনায় প্রথন বলা যায়। প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ভারতের চিত্রকলার বিবর্তন ও সমৃদ্ধি দুইটি খণ্ডে আলোচিত হয়েছে। প্রথন খণ্ড শেষ হয়েছে আঠারো শতকে। অনেক উৎকৃষ্ট ও প্রাচীন ও আধুনিক ভারতীয় ছবি ভারতের বাইরে থাকায় ছাপা ছবির অ্যালবামের উপরেই প্রথম সংস্করণে তাঁকে বেশি নির্ভর করতে হয়। ১৯৫৮ সালের পর থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষে ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বহু চিত্রশালা ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে ছবি দেখবার ফলে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আবেগ ও প্রতায় আসায় অশোক নিজের প্রথন প্রচেষ্টা ও আলোচনা এবার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সব থেকে সমৃদ্ধি পেয়েছে সাদা-কালো ও বহুরঙে ছাপা চিত্রাবলীর সম্ভার, যা এই ধরনের ইতিহাস রচনায় একটি নতুন ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে। ভারতের চিত্রকলার বিবর্তনের ইতিহাস বিবৃত করতে গিয়ে লেখক শুধুমাত্র রজার ফ্রাইয়ের দৃষ্টিতে ভারতীয় চিত্রকলার মধ্যে বিশ্বপ্রকৃতির মূল সত্তার পরিশুদ্ধ রূপের প্রতি মুগ্ধতা কিংবা নেনব্রান্টের লেখায় ভারতীয় চিত্রকলার দুর্লভ নিতব্যয়িতার অকুণ্ঠিত স্তুতির কথা বলেননি, সেই সঙ্গে দেখিয়েছেন ভারতীয় শিল্পীর পক্ষেও পাশ্চাত্য চিত্রকলার বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আত্মস্থ করার একান্ত প্রয়োজনীয়তার কথা। এই তুলনার টানাপোড়েনে বিস্তারিত হয়ে অশোক নিত্রের “ভারতের চিত্রকলা’ সমৃদ্ধ হয়েছে।যুগপরম্পরায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের সঙ্গে ভারতীয় চিত্রকলার সর্বাঙ্গীন রসগ্রহণে বইটি ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে নির্ভরযোগ্য দলিল হয়ে থাকবে।






Reviews
There are no reviews yet.