Description
বুদ্ধিকে যাঁরা জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁরা আসলে বুদ্ধির সঙ্গে অবৈধ সহবাস করেন। সাজসজ্জার ব্যতিক্রম, বড় মানুষের নির্দিষ্ট প্রকারের অথবা অন্যরকম আচরণ, বিশেষ কোনও মুদ্রাদোষ, এমনকী তাঁর বিপরীত ব্যবহারও কোনওভাবে একজন ‘ইনটেলেকচুয়াল’-এর সংজ্ঞা তৈরি করতে পারে না; সেই সংজ্ঞাটা তৈরি করতে পারে একমাত্র তাঁর ‘ইন্টেলেকট’ বা বুদ্ধিই।
‘ইনটেলেকচুয়াল’ প্রমাণ করার জন্য একই ঘেমো পাঞ্জাবি পরে প্রতিনিয়ত বস্তিবাসীর পঙ্কোদ্ধার করার প্রয়োজন আছে, নয়তো বা নারীমুক্তির বিষয় নিয়ে অযথা আচরণহীন মৌখিকতার আড়ম্বর তৈরি করতে হয়, অথবা রামায়ণ-মহাভারত, কিংবা কোনও কিছুই না বুঝে মনু যাজ্ঞবন্ধ্য ছেঁচে ফেলাটাও ‘ইন্টেলেকচুয়াল’-এর লক্ষণ হতে পারে না। অথচ ঠিক এঁদেরই আমরা আজকাল ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ বলছি। স্ত্রী-পুরুষ-নির্বিশেষে এঁরা অত্যন্ত অভিজাত এবং অধিগুণসম্পন্ন মানুষ- সর্বদাই স্বকল্পিত এক অভিমানমঞ্চে বসে থাকেন অনধিগতবিদ্য কতগুলি এম.এ. পাশের স্তাবকতাতে এঁরা এতটাই পৃষ্ট যে, প্রায়ই স্ব-বিষয় অতিক্রম করে তাঁরা বেশিরভাগ সময়েই অন্যের বিষয়ে অপক্ক জ্ঞান বিতরণ করতে থাকেন এবং সেগুলি অত্যন্ত মুগ্ধবোধে সাধারণ্যে গ্রাহ্য হয়ে ওঠে। ভারতবর্ষে এঁরা আজকাল সীতা-দ্রৌপদীর নিপীড়ন নিয়ে কূট তর্ক করেন, রামচন্দ্র এবং বুদ্ধের তুলনামূলক আলোচনায় প্রথমজনের সর্বনাশ করে অত্যন্ত মধুরতায় অন্যতরের উচ্চতা স্থাপন করেন। যদিও এঁরা দুই ভগবৎপ্রমাণ পুরুষের মূল চারিত্র-বৈশিষ্ট্য কিছুই জানেন না।







Reviews
There are no reviews yet.