Description
মুখবন্ধ
জওয়াহরলাল নেহরু
এ বইখানি ব্যঙলায় লেখা, এবং অতি দুঃখের সঙ্গেই বলি বাঙলা আমি জানি না। ভারতের এই গরীয়সী ভাষায় আমি অজ্ঞ-এজন্য চিরদিন আমার পরিতাপ আছে। মূল বইখানি আমি পড়তে পারিনি। তবে ভাষান্তরে তার অনেকগুলি সংক্ষিত অংশ আমি পড়েছি, সেগুলি বিশেষ ভাবে আমাকে আকৃষ্ট করেছে।
পাহাড়-পর্বত যেখানেই থাকুক, আমার প্রিয়। কিন্তু হিমালয় আমার মনের উপর এক অদ্ভুত মোহাবেশ বিস্তার করেছে; তার সদে যা কিছু সংশ্লিষ্ট তাই আমার মনকে টানে। হিমালয় যে শুধু ভারতের বিস্তীর্ণ সমতল ভূভাগের শীর্ষে নগাধিরাজ রূপেই বিরাজমান
তাই নয়, প্রত্যেক ভারতবাসীর অন্তরে তার একটি গভীর বাণীও মন্দ্রিত। ইতিহাসের উষাকাল থেকে হিমালয় আমাদের জাতির জীবনের সঙ্গে গ্রথিত; এবং শুধু যে আমাদের রাষ্ট্রনীতিকেই হিমালয় প্রভাবিত করে এসেছে তাই নয়, আমাদের শিল্প-কলা, আমাদের। সাহিত্য, আমাদের পুরাণ এবং ধর্মের সঙ্গেও এই পর্বতমালা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে আছে। সুদূর অতীতকাল থেকে হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের জাতীয় জীবনের বিকাশে হিমালয় যে-অংশ গ্রহণ করেছে, এমার মনে হয় পৃথিবীর অন্য কোথাও অপর কোনো পাহাড় পর্বত বা গিরিশ্রেণী তা করতে সক্ষম হয়নি।
এই কারণে আমাদের এই সুপ্রাচীন ও সুমহান বন্ধু ও প্রতিপালক সম্বন্ধে এল রচনাকেই আমি সমাদর করি; এবং বিশেষ করে স্বাগত জানাই তাঁকে যিনি শুধু ভৌগোলিকের দৃষ্টিতে হিমালয়কে দেখেননি, যিনি বন্ধু বলে তাকে হৃদয়ে গ্রহণ করেছেন।
একদিকে তার আছে সৌন্দর্য ও কাব্য: অন্যদিকে যেমন ভয়-ভীষণতা তেমনি ভাবের প্রশান্ত গাম্ভীর্য। হিমালয়ের এই বিভিন্ন মেজাজ-মর্জির সঙ্গে যাঁরা আপন আপন সুর মেলাতে পারেন, তাঁরাই হিমালয়ের রসগ্রহণে সমর্থ হন। এ গ্রন্থের রচয়িতা শ্রীপ্রবোধকুমার সান্যাল আমাদের এই মহান বন্ধু ও সখার সুরে নিজ অন্তরের সুর নিবিড়ভাবে মিলিয়েছেন একথা তাঁর লেখা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। হিমালয় অঞ্চলে তাঁর বহুবার পর্যটনের কথা ভেবে আমি ঈর্ষান্বিত বোধ করি।
অন্যান্য যাঁরা এ বইখানি পাঠ করবেন, এ বইয়ের দৌলতে হিমালয়ের আকর্ষণী শক্তির রহস্য তাঁদের অন্তর্দৃষ্টির সম্মুখে কিয়ৎপরিমাণে উদ্ঘাটিত হবে; এবং যুগযুগান্তকাল ধরে অগণ্য বংশপরম্পরায় হিমালয়ের গিরিশৃঙ্গমালা আমাদের দেশবাসীর মনে যে মোহিনী মায়া বিস্তার করে এসেছে, তারও কতকাংশ তাঁরা উপলব্ধি করতে পারবেন।”
অধ্যাপক শ্রীসোমনাথ মৈত্র-কৃত অনুবাদ








Reviews
There are no reviews yet.