Description
হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান, দর্শনীয় ও ধর্মীয় প্রাচীন সৌধ। যেগুলো আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার পথ প্রশস্ত করে। হেমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পাণ্ডুয়ার ইতিহাস’,প্রভাস পালের ‘পাণ্ডুয়ার ইতিহাস’, কল্যাণ ব্রহ্মচারীর ‘ভারত পথিক রামমোহন ও রাধানগর’, স্বামী তেজসানন্দের ‘শ্রীধাম কামারপুকুর, শ্রী শ্রাদ্ধানন্দ দেবশর্মার ‘মাহেশ মঙ্গল বা মাহেশ পরিচয়’, নীহাররঞ্জন চাকীর ‘ব্যান্ডেল গির্জার ইতিহাস’, প্রফুল্ল চক্রবর্তীর সোস্যাল প্রোফাইল অব তারকেশ্বর’, মানব মন্ডলের ‘প্রসঙ্গ তারকেশ্বর’ গ্রন্থে প্রাচীন আঞ্চলিক ইতিহাসের পরিচয় পাওয়া যায়। সপ্তদশ শতক পর্যন্ত সরস্বতী নদীর তীরে অবস্থিত সপ্তগ্রাম ছিল একটি সমৃদ্ধিশালী বন্দর নগরী। তৎকালীন বাংলার অর্থনীতির সাথে সামাজিক ক্ষেত্রেও সপ্তগ্রামের বিশেষ প্রভাব ছিল। অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র ঘোষের ‘সপ্তগ্রামের উদয়অস্ত’, নিতাই ঘোষের‘সপ্তগ্রামের ইতিকথা’, প্রশান্ত ঘোষের ‘সপ্তগ্রাম সভ্যতার ইতিহাস’, বিজয়চন্দ্র কর্মকারের ‘ইতিহাসে বাঁশবেড়িয়া, মুনীন্দ্রদেব রায়ের ‘বাঁশবেড়িয়া বা বংশবাটী’ গ্রন্থে প্রাচীন সপ্তগ্রামের ইতিহাস আলোচিত হয়েছে।
সপ্তগ্রাম বন্দরের পতনের পর হুগলি বন্দর সহ হুগলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলো বিদেশী বণিক সম্প্রদায় বাণিজ্যের সঙ্গে ঔপনিবেশ স্থাপনের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার পথ প্রশস্ত করে। অধ্যাপক বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দননগরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’, হরিহর শেঠ সংকলিত ‘সংক্ষিপ্ত চন্দননগর পরিচয়’, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভদ্রেশ্বর অঞ্চলের ইতিবৃত্ত’, ভৈরবপ্রসাদ হালদারের ‘শহর শ্রীরামপুরের ইতিকথা’, কৃষ্ণগোপাল পাকড়াশীর ‘তিন শতকের রিষড়া ও তৎকালীন সমাজচিত্র’, রামকৃষ্ণ সরকারের ‘কোন্নগরের ইতিহাস’, প্রভাস পালের ‘কোন্নগরের ইতিহাস’, সুকুমার সাহার ‘উত্তরপাড়া : কিছু জানা কিছু অজানা’ গ্রন্থগুলো আঞ্চলিক ইতিহাসের নতুন দিশারী।
আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়। এমনই প্রয়াসের ফসল সুধীরকুমার মিত্রর ‘হুগলি জেলার দেব-দেউল’, জগবন্ধু কুণ্ডু সম্পাদিত ‘হুগলি জেলা : সাহিত্য ও সংস্কৃতি’, অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘হুগলি জেলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস’, তুষার চট্টোপাধ্যায়ের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে হুগলি জেলা’। তবে এই সকল গ্রন্থগুলোকে আঞ্চলিক ইতিহাস না বলে ইতিহাস চর্চার সহায়ক গ্রন্থ বলাই যুক্তিযুক্ত।
জেলার নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে ইতিহাস কেন্দ্রিক যে সকল গ্রন্থ রচনা প্রকাশিত হয়েছে সেই সকল গ্রন্থ ও গ্রন্থকারের সম্যক পরিচয় দেওয়া সহজ কাজ নয় ৷ অনেকেই আলোচনার অগোচরে থাকলেও তাদের অবদান কোন অংশে কম নয়। বর্তমানে জেলার শহর ও মফঃসল থেকে প্রকাশিত সাময়িক পত্র ও ক্ষুদ্র পত্রিকাগুলো মূল্যবান প্রবন্ধ-রচনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক ইতিহাসকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অবিভক্ত বাংলায় শিক্ষা-সংস্কৃতি-ইতিহাস চর্চায় যে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছিল তার সূচনা হয় হুগলি জেলায়। প্রথম ছাপাখানা স্থাপন, বাংলা সাময়িক পত্র ও গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চাকে আগামী প্রজন্মের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে যার ধারাকে বহন করে ঐতিহাসিকগণ আঞ্চলিক ইতিহাস রচনায় অমূল্য সম্পদ দান করেন।
বঙ্গদেশের ইতিহাসে প্রসিদ্ধ জেলা হিসাবে হুগলির খ্যাতি বহু প্রাচীন । জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অজস্র ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান, দর্শনীয় ও ধর্মীয় প্রাচীন সৌধ। জেলার পথে ঘাটে ঘুরে মানুষের সাথে মিশে লেখক ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধান করেছেন। ঐতিহাসিক বিভিন্ন তত্ত্ব ও নথিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে পরিচিত তথ্যগুলোকে ইতিহাসের সাথে সাহিত্য যোগ করে লেখক নতুন আঙ্গিকে দেখানোর প্রয়াস করেছেন। এতে ইতিহাস আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এই গ্রন্থে স্বল্প পরিসরের মধ্যে জেলার পরিচিতি, আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চা, ঐতিহাসিক সরস্বতী নদী, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনালেখ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান, মন্দির মসজিদ গীর্জার পুরাকীর্তিসম্বলিত দর্শনীয় স্থান, সাহিত্য-সংস্কৃতির কিছু পরিচয় তুলে ধরেছেন। গ্রন্থটি সচেতন পাঠক ও গবেষক মহলে সমাদৃত হবে আশা করা যায়






Reviews
There are no reviews yet.