Description
মুম্বাইয়ের সবচেয়ে পুরোনো অভিজাত ক্লাবগুলোর মধ্যে একটা হল বম্বে বাইকুল্লা ক্লাব। ক্লাবের আনুয়াল প্রোগ্রাম উপলক্ষ্যে তিন দিনের অনুষ্ঠান চলছে। গান বাজনা, খাওয়া দাওয়ার এলাহি আয়োজন। ক্লাবের খোলা লনে বিশাল স্টেজ। একদিকে বুফে ডিনার আর ককটেলের ব্যাবস্থা। পরপর নানারকম দেশী বিদেশী খাবারের আর ড্রিঙ্কসের কাউন্টার। স্টেজে নিলাদ্রি কুমারের অসাধারণ সেতার বাজনা চলছে। নিজের প্রিয় রামপাঞ্চ নিয়ে একদিকের গোল টেবলে বসে উপভোগ করছিলেন নন্দন বাগচী। তিনি ক্লাবের মেম্বার নয়। বন্ধু মিস্টার ক্রুওয়ালার সৌজন্যে এসেছেন। ক্রুওয়ালার বেশ ক পেগ হয়ে গেছে। ঢুলু ঢুলু চোখে প্রচুর বকবক করে চলেছেন। মুম্বাইয়ের শেয়ার বাজারের বড় খেলোয়াড়। নিজের ব্যাবসার টাকা শেয়ারে ঢেলে অঢেল টাকা করেছেন। গোল টেবলে স্কুওয়ালা আর নন্দন ছাড়া কেউ ছিলেন না । এক ভদ্রলোক কিছুক্ষণ এ টেবল ও টেবল ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। রাত প্রায় নটা। এই সময় প্রাইম ভীড়! টেবলগুলো সব প্রায় ভর্তি! ভদ্রলোকের হাতে খাবারের প্লেট রয়েছে। মনে হয় মদ্যপানের অভ্যাস বিশেষ নেই। তীক্ষ্ণ নাক আর সূঁচালো দাড়ি। চঞ্চল দু চোখ চারিদিকে ঘুরছে। দেখেই নন্দনের মনে হল লোকটি এখানকার জনগণের থেকে একটু অন্য গোত্রের। বলে উঠলেন “হেলো। ইউ মে জয়েন আস ইন দিস টেবল। উই টু আর ওনলি দেয়ার।”
“থ্যাঙ্ক ইউ! হাতে প্লেট নিয়ে ঘুরে বেড়ানো খুব মুশকিল, ইউ নো!”
“প্লিজ মেক ইয়োরসেলফ কমফর্টেবল। নো ড্রিঙ্কস?” “নো, আই ডোন্ট ড্রিঙ্ক!”
চুপচাপ বসে খেতে লাগল লোকটি। নন্দনের অভিজ্ঞ চোখ বলছে লোকটি একটু বিশেষ এবং কারো সঙ্গে মিশতে আগ্রহী নয়। কিন্তু কেন? অনারকম কিছু দেখলেই নন্দনের অসীম কৌতূহল! তার নিরসন না হওয়া অবধি শান্তি নেই। নন্দন বলে উঠলেন
“আই আম নন্দন বাগচী! ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, ইয়োর নেম প্লিজ!”
“আই আম আহুজা। শ্যাম আহুজা।”
“আই আম ইনটু স্টক মার্কেট! হুইচ ফিল্ড আর ইউ
ইন?”
“আই আম ইন সি বি আই।” বলে খাবার আনতে চলে গেল লোকটি!
নন্দনের মাথায় ঘণ্টি বেজে উঠল। নামটা খুব চেনা চেনা যেন! কোথায় শুনেছে? কোথায়? শ্যাম আহুজা শ্যাম আহুজা। হঠাত বিদ্যুৎ চমকের মত মনে পড়ল! শ্যাম আহুজার কথা সব কাগজে বারবার বেরিয়েছে নন্দা বাত্রা কেসে। ইনভেস্টিগেটিং অফিসার! ইন্টারেস্টিং। নন্দনের পেটের মধ্যে গুড়গুড় করে উঠল! নন্দা বাত্রা কেস ক্লোজলি ফলো করছিল নন্দন! রোমিত সাক্সেনা মৃত্যু! নন্দা বাত্রার বেল পাওয়া সবই খুবই গোলমেলে লেগেছিল নন্দনের। কিন্তু এমন কারো সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি যাকে বলতে পারে কিছু। অসম্ভবা এ কেসে নন্দা ছাড়া পেতে পারে না! ”
এভাবেই দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলে ঘটনার ঘনঘটা। এ
শতাব্দীর কমার্শিয়াল ও ব্যাঙ্কিং সেক্টরে সবচেয়ে সাড়া
জাগানো কিছু সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই উপন্যাস! রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে কর্পোরেট জগতে কাচের ছাদ ভেঙ্গে শির্ষে উঠেছিলেন এক নারী। এ উপন্যাস তার উত্থান ও পতনের কাহিনী। কিন্তু কেন এই পতন? জানতে হলে পড়তে হবে “কাঁচের ছাদ”। বলা হয় “Truth is stranger than fiction”! এ কথাই বুঝি প্রমাণ করে এই কাহিনী! জীবনের প্রতি মোড়ে বদলায় এর ধারা।
এ কাহিনী এক মা মেয়ের গল্পও বটে। ছক ভাঙা মায়ের অসাধারণ মেয়ে। এ কাহিনী ভালোবাসা, সম্পর্ক, অসহায়তা সব নিয়ে বহুকৌণিক।






Reviews
There are no reviews yet.