Description
ইংরেজ ঔপনিবেশিকদের এদেশে পদার্পণের বহু শতাব্দী আগেও মহাবলীপুরমের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন বিদেশি সূত্রে। গ্রিসের ভূগোলবিদ টলেমি-র রচনায় উল্লিখিত ‘মালাঙ্গে’ নামটিকেও মহাবলীপুরমের তৎকালীন নাম মনে করা হয়। হিউয়েন সাঙ তাঁর বিবরণে ‘কাঞ্চি’-কে পহ্লব রাজ্যের অন্তর্গত সমুদ্র-বন্দর হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি যে মহাবলীপুরমের কথাই বলতে চেয়েছিলেন, তা আন্দাজ করা যায়। শিল্প-বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা পহ্লব রাজাদের নির্মিত মন্দিরগুলিকে, বিশেষত পাথর কেটে তৈরি গুহামন্দিরগুলিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করে থাকেন। এই প্রভেদের ভিত্তি যেমন খানিকটা নির্মাণশৈলীর তারতম্যে, তেমনই খানিকটা যুগ বা সময়ের পার্থক্যে। প্রথম ভাগের গুহামন্দিরগুলিকে বলা হয় মহেন্দ্ৰশৈলীর গুহামন্দির এবং অপর বিভাগটির নাম মামাল্লাশৈলীর গুহামন্দির। মামাল্লাশৈলীর অপর কীর্তি হল খোলা আকাশের নীচে, পাথরের গায়ে খোদাই করা অর্ধোত্থিত বা বাস-রিলিফের বিভিন্ন পৌরাণিক দৃশ্য। এই ধরনের কাজের উৎকৃষ্টতম উদাহরণ হল মহাবলীপুরমের শিল্পকীর্তি এবং স্থাপত্য। মহাবলীপুরমের প্রধান আকর্ষণ যে বারো-তেরোশো বছরের পুরনো প্রত্নকীর্তিগুলি, সে-বিষয়ে কোনও সন্দেহই থাকতে পারে না। উনিশশো চুরাশি সালে মহাবলীপুরমকে ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মহাবলীপুরমের প্রত্নসম্ভারের প্রতিটি ইঞ্চি প্রত্যেক শিল্পরসিকের, শিল্পবোদ্ধার এবং নিতান্ত সাধারণ মানুষেরও অবশ্যই দেখা উচিত। এই সব ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সচিত্র সংঘবদ্ধ পরিচয় গ্রন্থিত হয়ে রইল এই বইতে।






Reviews
There are no reviews yet.