Description
বর্তমান বাংলা ছোটোগল্পের জগতে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী একটি পরিচিত নাম৷ লেখকের আবশ্যিক পাঠ্যতালিকার অন্যতম একটি গ্রন্থ হল ‘বেদ’৷ এই সংকলনে তিনি বেদের নানা চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছেন; এসেছেন বেদের দেবতা দৌ৷ এই সংকলনের নানা গল্পে বেদের অনুষঙ্গ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে৷
মোট আটটি গল্প আছে এই সংকলনে৷ যাঁরা পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক গল্প পড়তে ভালোবাসেন, এই বই তাঁদের কাছে অত্যন্ত আপনার হয়ে উঠবে বলেই লেখকের বিশ্বাস৷
এই বইয়ের প্রতিটি গল্পেই ফুটে উঠেছে মানুষের জীবনের গভীরে লুকিয়ে থাকা একাকীত্বের বেদনা ও অসহায়বোধ। এক অমোঘ নিয়তিকেও আমরা যেন প্রতিটি গল্পে ফুটে উঠতে দেখি। যার থেকে ঈশ্বরেরও মুক্তি নেই। বেঁচে থাকার জন্য তাঁকেও সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশ নিতে হয়। একাকী নারীর কাতর আবেদন তিনি রাখতে পারেন না। সেই নারী খুন হয়ে যায়। তিনি হলুদ পাখির গান শেখেন। সাধারণের মধ্যে খুঁজে ফেরেন নিজেকে। কুটির বানিয়ে বাস করেন। একাকী বসবাস করা নারী, কোনও এক পুরুষ আর শাসকের হাতে মার খেয়ে ঈশ্বরও পলাতক এঁদের মতো। লুই-ভুসুক-কাহ তিন কবির সঙ্গে নারীও বেরিয়ে পরে বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্রের খোঁজে। কেউ বাঁচার জন্য নাগ্রোধ বৃক্ষ ছেদন করে, কেউ গান বাঁধে, নদী পেরোয়, কেউ গালার পুতুল বানায় প্রেমিকের জন্য। মিলন হবে দোঁহে? কেউ বা আফিমের বদলে দুধের পাত্রে চুবিয়ে নিয়ে যায় পৃথু আবিষ্কৃত উন্নতমানের বীজধান ঈশ্বরকে উপহার দেয় এক কলস পীতবর্ণ সোমরস। কিন্তু ঈশ্বর কোথায়? তিনি নিখোঁজ। কিন্তু একজন ঈশ্বরকে সকলেরই যে দরকার হয় – শাসকের, শাসিতের। কে হবেন পরবর্তী ঈশ্বর? ফলে সোম বহনকারীকেই লোকজন ঈশ্বর বানিয়ে দেয়। মানুষের জীবনে, ঈশ্বরের জীবনে যা কিছু ঘটে তা সবই ওই একাকীত্বকে ঘোচাবার জন্য। কিন্তু মানুষ ও ঈশ্বর হাত ধরাধরি করে চ’লেও পারে কি জীবনের হলুদ পাতাদের মুছে ফেলতে?






Reviews
There are no reviews yet.