Description
এক প্রাতঃকালে, যখন আলো ফোটেনি, মনে হল, এতকাল বাস করছি, এই টালা-বেলগাছিয়া-পাইকপাড়ায়, কই, তেমন কিছু লিখিনি তো চাদ্দিকের মানুষ নিয়ে, যারা ছিল, যারা আছে, তাদের নিয়ে। নানারকম মানুষের নানারকম জগৎ নিয়ে। এখন কি আর সম্ভব? প্রায় সত্তর বছর কেটে গেল হেথায়, শিকড় চারিয়ে গেছে কংক্রিটের দালানে যখন, আর কি হবে লেখা? একটি উপন্যাস, কয়েকটি গল্প লিখলেও, এই জনপদের মানুষদের কথা তো বলাই হয়নি সেখানে। হয়েছিল, কিন্তু তারা ছিল গুটিকয়। ফলে লিখব, ঠিক করলাম। বেরোই সকালবেলা। এই অভ্যেস বাল্যকাল থেকেই, এখনও ভুলে যাইনি। আর যা দেখা হবে, সব সকালবেলায়। তখন দলে দলে মানুষ বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। সকালের হাঁটাহাঁটি শেষ হলেই, দিন আরম্ভ হয়। কমবয়সিরা, মধ্যবয়সিরা ছোটে কাজেকম্মে, জীবিকার রসদ আহরণে। মানুষ-দেখা সকালবেলায়ই হয়। সকালবেলার মানুষ নিয়ে লিখব এই লেখা এমন এক সিদ্ধান্তে এসে লিখতে গিয়ে দেখি, দূর অতীতের কথাও এসে গেল। সে ছিল এই পৃথিবীতে আমার সকাল। এই জীবনে আমার সকাল। আমার প্রাতঃকাল। আরম্ভ হল সেখান থেকেই। ২০২৪-এর মে থেকে শুরু এই লেখা, সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ অবধি লিখে থামলাম। এর আরম্ভের কোনো তিথি নেই, এর বিসর্জনেরও নেই কোনো দিনক্ষণ। এর ভিতরে আমাদের এপারের গ্রাম দণ্ডীরহাটে এই জীবনের প্রাতঃকাল আছে। শান্তিনিকেতনের একটি সকাল আছে। জীবন অপরাহ্ণে পৌঁছেছে। অপরাহ্ণবেলায় পৌঁছে প্রাতঃকালের কথা লেখায় আনন্দ আছে, বিষাদও। এই লেখা আরম্ভ হয়েছিল লোকসভা নির্বাচনের সময়ে, শেষ হল যখন, মানুষ নেমেছে পথে, গর্জন করছে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ডাক দিয়ে। তার আগে জুলাই মাসে বাংলাদেশে তথাকথিত বিপ্লব হয়ে গেছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা নড়ে গেছে। শাসক বদল হয়েছে। এসবের ছায়া হয়তো এই প্রাতঃকালে এসে পড়েছে আমার নিজের মতো করে। সকালবেলায় মানুষ যেমন হাঁটে, তা অনুসরণ করতে চেয়েছি। খুঁজতে চেয়েছি এই জীবনের প্রাতঃকাল। প্রাতঃকালের এই জীবন। এই জনপদের প্রাতঃকাল। প্রাতঃকালের এই জনপদ। গল্প নয়। নভেল নয়। আবার আত্মকথাও নয়। এ হল সৃষ্টিছাড়া এক দিনপঞ্জি, যার অনেকটা চোখে দেখার সত্য, অনেকটা কল্পনার সত্য। তোমাদের আমি এমনি করে দেখতে চেয়েছি, হে পথ, পথের মানুষ, বৃক্ষাদি, পক্ষীকুল, রৌদ্রছায়া। নিজের মতো করে তোমাদের কথা লিখলাম। প্রণাম।







Reviews
There are no reviews yet.