Description
বৌদ্ধ ভিক্ষুণী, যাঁদের স্থবিরি বলা হত, পালিভাষায় থেরী, তাঁদের রচিত শ্লোকের সংকলন থেরীগাথা— বৌদ্ধ শাস্ত্র ‘ত্রিপিটক’-এর অন্তর্গত মঙ্গলময় গীতিকাব্য। গাথাগুলি বৌদ্ধ ভিক্ষুণীদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধি বিষয়ে আত্মকথন— সংসার ত্যাগ, গৌতম বুদ্ধের শরণ নিয়ে ভিক্ষুণী জীবনে প্রবেশ ও সাধন অভিজ্ঞতার বিবরণে সমৃদ্ধ। পাঁচশো বাইশটি শ্লোকে রচিত তিয়াত্তরটি কবিতার এই সংকলনকে ধর্মীয় অনুপ্রেরণার উৎস বলে মনে করা হয়। থেরীগাথা যেন প্রায়শই নিজের সঙ্গে কথা বলা থেরীদের। প্রতিদিনের ছোট ছোট চেনা অনুষঙ্গে বৌদ্ধধর্মে অনুপ্রাণিত হওয়ার অভিজ্ঞতা কীভাবে জীবনযাপনের অংশ হয়ে যায়, সুখ দুঃখ বেদনার মুহূর্ত কখন বদলে যায় আনন্দে, কেমন করে ধর্মযাপনের একান্ত অনুভূতিমালা মেয়েদের নিজস্ব নান্দনিক বোধে কাব্য হয়ে ওঠে, থেরীগাথা সে কথাই বলে। আশ্চর্য পুথি এই থেরীগাথায় কোন মন্ত্রবলে আড়াই হাজার বছর আগে ভারতের মেয়েরা দেহ ভুলে, ভালবাসা ভুলে, মুক্তির ভাবনায় তুরীয় আনন্দ পেয়েছিল, তা বর্ণিত। মৃতপ্রায় পালি থেকে অমিতপ্রাণ বাংলা ভাষায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে মেয়েদের প্রথম কবিতা, মেয়েদের প্রথম স্বাধীন স্বর। এ গাথা বয়সে এত পুরনো যে খেই হারিয়ে যায়, ভাবনায় এত অভিনব যে তল পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত এবং সর্বজনীন। আধ্যাত্মিক ইতিবৃত্তকে কাব্যরচনার বিষয়বস্তু করে তোলায় থেরীগাথা এমনই অসামান্য যে আড়াই হাজার বছর পরেও মৈত্রী ও মঙ্গল সাধনায় থেরীদের সমবেত মুক্তির খোঁজ আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।






Reviews
There are no reviews yet.