Description
মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায় সে রহস্য এই বৈজ্ঞানিক যুগে আজও মানুষকে কৌতূহলী করে। তাই দেখি প্রেততত্ত্ব নিয়ে দেশে-বিদেশে লেখালেখি এ যাবৎ কম হয়নি। অদ্ভুত সব ঘটনার বিবরণ পড়ে মনে হয় বিজ্ঞান হয়তো-বা এখনো মরণের পারের নাগাল পেল না।
আমার শৈশবে এই শহর কলকাতার শিক্ষিত সমাজে প্ল্যানচেটের সাহায্যে পরলোক চর্চার একটা ঢেউ এসেছিল।
সময়টা এই শতকের তিরিশের দশক। আমার পিতৃদেবও ১৯৩৬ সালে অবিশ্বাস এবং সন্দেহ নিয়ে প্ল্যানচেটে আত্মা আনার ব্যাপারে দিনকতক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। এই পুস্তক তারই দিনলিপি। এতকাল তা পাণ্ডুলিপি আকারে পড়েছিল। আজ মনে পড়ে, পিতৃদেব তাঁর শেষ জীবনে তেমন মনোযোগী শ্রোতা পেলে কী উৎসাহের সঙ্গে ঐ পাণ্ডুলিপির আদ্যপান্ত পড়ে শোনাতেন। শ্রোতারা অনেকেই তখন বই ছাপিয়ে প্রকাশ করার পরামর্শ দিতেন তাঁকে। পিতৃত্বন্ধু শিশুসাহিত্যিক স্ফতি কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় পিতৃদেবের এই প্ল্যানচেটে পরলোকচর্চার বিবরণ দিয়ে একটি প্রবন্ধও লিখেছিলেন। কিন্তু পিতৃদেবের চরিত্রের প্রচারবিমুখতাই পুস্তকখানি সেই সময় প্রকাশের অন্তরায় হয়ে পড়ে। আত্মার অমরত্ব নিয়ে কোনো দার্শনিক আলোচনা এই বইয়ে নেই। যে সব মৃতজনের আত্মা আনা হয়েছিল-পিতৃদেব নানা কৌশলে সহজ সরল প্রশ্নের মাধ্যমে তাঁদের অস্তিত্বের সত্যতা যাচাই করতে চেষ্টা করেন মাত্র। একালের পাঠক যদি একবার অবিশ্বাসকে স্বেচ্ছায় নির্বাসন দিয়ে পিতৃদেবের এই দিনলিপিগুলি পড়ে দেখেন, মনে হয় পিতৃদেবের মতো তাঁরাও হয়তো-বা একালেও আত্মার অমরত্বে বিশ্বাসী হয়ে পড়তে পারেন।
জীবিতেশ চক্রবর্তী






Reviews
There are no reviews yet.