Description
দিলীপকুমার রায়ের জীবন বহুধা-বিস্তৃত—তিনি সঙ্গীতজ্ঞ, গায়ক, স্বয়ং সুরকার-গীতিকার, অধ্যাত্মরসপিপাসু, ‘অঘটন’-এ বিশ্বাসী, ‘আকুমার যশঃ’বিশিষ্ট বিশ্বপ্রেমী, জগৎসন্ধানী মরমী, গৌরবান্বিত সাহিত্যসেবী, বন্ধুবৎসল, রসিক সুজন, প্রবল আত্মাভিমানী, আত্মসচেতন, অরবিন্দ শিষ্য, দেশসেবক অথচ সন্ন্যাসী। আরও বহু বিশেষণে তাঁকে আমরা বিশেষায়িত করতে পারি। তিনি যা দিয়েছেন, তার চেয়ে তিনি মহৎ। তাঁর সমগ্র জীবন তথা সাহিত্য, সঙ্গীত, কাব্য—সব কিছু একটা অখণ্ড অধ্যাত্ম চেতনায় বিধৃত এবং নিত্য সত্যানুসন্ধানে ব্যাপ্ত। সব মিলিয়ে দিলীপকুমার এক বিশ্বতোমুখী প্রতিভা। তবু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাঁর সৃষ্টি পরম পূর্ণতা পেয়েছে তাঁর গানে। শুধু তাই নয়, আহৃত ও উপলব্ধ সঙ্গীতকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও তাঁর একটা বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। সঙ্গীত যদি তাঁর প্রথম প্রেম ও প্রথম পরিচয় হয়, তাহলে দিলীপকুমারের দ্বিতীয় পরিচয় তিনি একজন স্বকীয় সাধনায় উত্তীর্ণ প্রথম শ্রেণীর সাহিত্যিক। গানের জগৎ থেকে তিনি উঠে আসেন সাহিত্যের জগতে। বাংলা-ইংরেজি বই মিলে তাঁর বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে উপন্যাস, কবিতা, সঙ্গীত, ভ্রমণকাহিনী, রমন্যাস, অলৌকিক কাহিনীর বিচিত্র বিষয়-বিন্যাস। একথা বলতেই হবে যে, তাঁর বেশির ভাগ রচনাই চরিত্রে মিস্টিক বা অধ্যাত্মভাববহ। আধুনিক জীবনের মধ্যেই অলৌকিক উপস্থিতির বিচিত্র অনুভবে তাঁর সাহিত্যসৃষ্টি স্পন্দিত। এর মধ্যে কাহিনীর চেয়ে মানসিক আত্ম-সচেতনতা, ভবিষ্যৎ-জীবনের রূপরেখা, সৃষ্টির আঙ্গিক-বৈশিষ্ট্য এবং ঈশ্বরের পরম উপস্থিতি পাঠক ক্ষণে ক্ষণে উপলব্ধি করেন। বাংলা সাহিত্যে ঠিক এমনতরো বিষয়-বিন্যাস আমরা পূর্বে লক্ষ করিনি। এই নিবাচিত খণ্ডে তাঁর চারখানি বই সংকলিত হল-ভ্রাম্যমাণ, সাঙ্গীতিকী, অঘটন আজো ঘটে এবং স্মৃতিচারণ। ঘটনাচক্রে তাঁর লেখা কোনও উপন্যাস বা অন্যান্য বই অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি এই সংকলনে। পাঠক-পাঠিকারা এনিয়ে অভিযোগ করতেই পারেন। আমরা শুধু এইটুকু বলব, যে-লেখক অনেক লেখেন তাঁর নির্বাচিত সংকলনে ঝুঁকি আছে। তবুও এক্ষেত্রে আমরা দিলীপকুমারের সেরা চারখানি বই গ্রহণ করেছি।






Reviews
There are no reviews yet.