Description
মহাভারতের যুদ্ধের পরে আর্যাবর্তে এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ এসে উপস্থিত হয়। যুগন্ধর শ্রীকৃষ্ণের রাজনীতির ফলস্বরূপ আর্যাবর্তের সমস্ত পরাক্রমী নরেশ একটি রাজপরিবারের অন্তর্কলহ থেকে উৎপন্ন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে নিজেদের প্রাণের আহুতি দিয়েছেন। সব শেষ। বাদ পড়েনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের নিজের বংশটিও, মৌষল পর্বে তাতেও ইতি টেনেছেন বিধাতা। শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু ঘটেছে জরা নামক এক ব্যাধের বাণে। তার পরে কেটে গেছে প্রায় তিনটি শতাব্দী, কিন্তু কিছুতেই মোছা যায়নি পরীক্ষিৎ – পুত্র জনমেজয় দ্বারা আয়োজিত নিদারুণ এক নরমেধ যজ্ঞের স্মৃতি। তিনি ক্রূর ভাবে হত্যা করিয়েছিলেন আর্যাবর্তের অধিকাংশ ঋষি – মুনি এবং ব্রাহ্মণদের। জীবিত ব্রাহ্মণদের নির্বাসিত হতে হয়েছিল ভারতভূমি থেকে। জপ – তপ – নিয়ম – বন্ধন – বিদ্যা – শিক্ষা – জ্ঞান – বিজ্ঞান লুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল। হবে না-ই বা কেন? আর ব্রাহ্মণ কই? সবাই যে নির্বাসনে! ঠিক সেই সময়ে ভারতভূমি থেকে পত্রাচার করে নির্বাসিত ব্রাহ্মণদের ফিরিয়ে আনা হয়। বিভিন্ন ব্রাহ্মণ গোষ্ঠী ভারতে এসে বসবাস শুরু করে। নানা স্থানে গুরুকুল স্থাপিত হয়। পুনরায় আরম্ভ হয় জ্ঞানের চর্চা। এমনই একটি চর্চাগৃহে কোনও এক অপবাদের শিকার হয়ে এক ব্রাহ্মণ যুবককে মাথা পেতে নিতে হয় নিজের গুরুর অভিশাপ। শুরু হয় তার অভিশপ্ত জীবন। শাপিত বটুক আর্যাবর্তে রাত্রিবাসের অধিকার হারিয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে বনে – বনান্তরে। এভাবে ঘুরতে – ঘুরতে একদিন তার সাক্ষাৎ ঘটে মহাভারতের এক অভিশপ্ত অথচ অমর চরিত্রের সঙ্গে। জীবন আমূল বদলে যায় তার পরে।







Reviews
There are no reviews yet.