Description
এ এক আশ্চর্য উপন্যাস। শিবরাম চক্রবর্তীর ‘দেবতার জন্ম’ গল্পে একটি পাথর কেমন ভাবে দেবতার মান্যতা পেল দেখানো হয়েছে। তার ভঙ্গিটা স্যাটায়ারের। কিন্তু ‘সুফীর কথা’-র বিস্তৃতি মহাকাব্যিক বললে অত্যুক্তি হবে না। গ্রিক নাটকের মতো চরিত্রেরা যে শুধু নিয়তিতাড়িত তা নয়, তাদের জীবন প্রকৃতির আদিম শক্তি ও যৌনতা নিয়ন্ত্রিত। প্রকৃতি আর যৌনতার ক্ষমতা আর শ্বাসরোধকারী সৌন্দর্য, জাদু বাস্তবতা উঠে এসেছে পাতায় পাতায়। মেলিপুল্লারথ পরিবারে নবজাতিকা দেবতুল্যা কার্তির জন্ম কোন সাধারণ ঘটনা নয়, তার জন্মমুহূর্তেই যেন জেনে যান তার মামা শংকু মেনন। ‘আম্মালুর শিশুকন্যাটি জন্মের পর থেকেই দ্রুত বড় হতে থাকল। সে এমনভাবে বাড়তে শুরু করল যে মনে হল প্রতিদিনই যেন প্রকৃতি তার সমস্ত উপাদান কিছু কিছু করে তার সঙ্গে যোগ করে দিচ্ছে। তার দেহ, রূপ সৌন্দর্যের বৃদ্ধির এই কাব্যিক ছন্দে পণ্ডিত মেননও বিস্ময়ে হতবাক, হয়ে গেলেন। কিছুদিন পর যখন তার নাম রাখা হল কার্ডিয়ানি তখন শিশুটি নিজেই তার নাম ছেঁটে করল কার্ত্তি।… আসলে কার্তির এই জন্মের বছরে প্রাচুর্যের যে বিস্ফোরণ ঘটলো তা আর একবার অতীতে ঘটেছিল। সে বার একদিকে কলেরার মহামারীতে যখন এক এক করে তার চার ভাই মৃত্যুর মিছিলে, তখন যেন প্রাচুর্য চারদিকে উপছে পড়ছে। একদিকে গোলায় ধান রাখার আর জায়গা নেই, তার উপর ওপর দিকে গাছ ভরা আম, কাঁঠাল ও অন্যান্য ফল এবং নানা ধরনের সব্জি। এতই ফলল যে বিলিয়ে দিয়েও শেষ হল না। শেষে নেওয়ার মতো গ্রামে আর নেই। তাই ফসল সব্জি নষ্ট হল বস্তা বস্তা ঝুড়ি ঝুড়ি। তাই এই উৎপাদনের এই বিপুল ফলনে কিন্তু অতীতের অজানা আশংকার ছায়া। মনে খালি এই ভাবনা- না জানি কি অমঙ্গল সুপ্ত আছে এই অভাবনীয় প্রাচুর্যের উৎপাদনের গভীরে।’






Reviews
There are no reviews yet.